একজন শোর জব করা চাকুরীজীবী আর
একজন জাহাজীর মধ্যে বড় তফাৎ কি
জানেন??
--সহনশীলতা ও অসহায়ত্ব।
জাহাজ যখন মাঝ সমুদ্রে ভাসতে
,রোলিং পিচিং সব কিছুর উপর যে কথা
আপনাকে বারংবার মনে করতে হয় সেটা
হল আপনার বিকল্প জাহাজে অন্য কেও
নেই।
আপনি অসুস্থ,রোলিং এ বমি করে ক্লান্ত
নাজেহাল? কাজ করতে কষ্ট
হচ্ছে,নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে??
তাতেও কিছু যায় আসেনা,তার পরেও
আপনার ডিউটি আপনাকেই করতে হবে।
যথা সময়ে ওয়াচে যেতে হবে..!
সব চাইতে নির্মম সত্য যেটা সেটা
হল,আপনি যখন পেশা হিসেবে নাবিক
জীবন বেছে নিয়েছেন তখন আপনার জন্য
বিকল্প কোন পেশা নেই। এই সাগর আর
লোনা পানি ছেড়ে আপনি আর স্থলে
ফিরতে পারছেন না,এটাই নাবিক
হিসেবে আপনার বড় অসহায়ত্ব।
এবার আসুন শোরে তথা স্থলভূমিতে কাজ
করা ফুলবাবুর কথায় আসি।
আপনার গায়ে জ্বর,মাথা ব্যাথা?
যান,দুই দিনের ছুটি নিয়ে বিশ্রাম করে
আসুন।
আপনার এই অফিসের বসকে পছন্দ না?
ঠিক আছে,এই চাকুরী ছেড়ে অন্য চাকুরী
নিন অথবা বদলী হয়ে অন্য অফিসে চলে
যান।
প্রতি সাপ্তাহে সাপ্তাহিক ছুটিতে
পরিবার নিয়ে হ্যাং আউটে যান,জীবনকে
উপভোগ করুন।
সারাদিনের কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাসায়
ফিরে আপনি যখন প্রিয়মুখ গুলো দেখে
তৃপ্ত হন ঠিক তখন একজন নাবিক অসহায় হয়ে
ওই নীল সাগরের অসীম সীমানায়
অপলকে তাকিয়ে থাকেন।
এই হল বড় নির্মমতা,তবে হ্যা নাবিকরা
অসহায়ত্বের মাঝে দিনাতিপাত করলে ও
আল্লাহতালা নাবিকদের সহায়।
কেননা,আল্লাহতালার রহমত ছাড়া উত্তাল
সমুদ্রে দিনের পর দিন মাসের পর মাস
প্রাকৃতিক দূর্যোগ এর সাথে লড়াই করে
টিকে থাকা সম্ভব হতোনা।
ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জানাই সেই নাবিকদের
যাঁদের অসহায়ত্বের বিনিময়ে একটি
পরিবারের বাকী সদস্যরা সুখের হাসি
হাসেন।
আর দূর সাগরে থেকে সেই সুখের
আপেক্ষিক স্বাদ নিয়েই তৃপ্ত থাকেন
আমাদের জাহাজীগন।
No comments:
Post a Comment