#মেরিন_ইঞ্জিনিয়ার_কে_বিয়ে_কেন_?
#আমার বিয়ের পরে অনেক বার অনেক পরিচিত এবং কাছের মানুষ দের কাছে একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি।এত প্রফেশন থাকতে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার কে বিয়ে কেন?
আমি তাদের প্রশ্নের জবাবে তাদের পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলাম,মেরিন ইঞ্জিনিয়ার কে বিয়ে নয় কেন?
#তাদের ভাষ্য মতে______
১.মেরিনরা ছয় মাস পানিতে (জাহাজে) থাকে আর ছয় মাস ডাঙায়(ছুটি)। বছরে ছয় মাস সংসার করতে পারে এ কেমন জাতের সংসার হলো?
৩.মেরিনদের বউরা দীর্ঘ ছয় মাস স্বামী বিরতি থাকায় তাদের চরিত্র নষ্ট হয়ে যায়।
৪. বাচ্চ কাচ্চা হলে সময় দিতে পারবে না সারাবছর।
৫.বিবাহিত ছেলে হয়ে ৬ মাস বউ এর থেকে দূরে থকলে চরিত্ত্র ভালো থাকে না।
ব্লা ব্লা ব্লা............ অনেক কথা
#এবার আসি প্রশ্নের জবাবে।
আমি একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার এর স্ত্রী। আমার কাছে মনে হয় একটা মানুষ তখনই দিনের আলোকে মুল্যায়ন করতে পারে যখন সে রাতের গাড় অন্ধকার কে কাছে থেকে দেখে।আমি বছরে ছয় মাস আমার স্বামীকে কাছে পাই।আর এই কাছে পাওয়াটার আনন্দ টা আমি অনুভব করি বাকি ছয় মাস একা কি করে ছিলাম ভেবে।পয়েন্ট এ আসি হ্যাঁ_______
১. মেরিনাররা ছয় মাস পরিবার থেকে দূরে থাকে তাই একজন মেরিনার তার পরিবার কে অন্তর দিয়ে ভালোবাসতে জানে।পরিবারকে তারা পাওনার চেয়েও বেশী মুল্যায়ন করে।
২.একজন মেরিনার এর পৃথীবির প্রায় সব দেশ এই বিচরনের সুযোগ হয় তাই তাদের মেন্টালিটি হয় অনেক উন্নত।তারা সামাজিকতা বুঝে।তারা আদর করতে জানে,কদর করতে জানে।
৩.একজন মেরিনার তার সংসারের হাজার সপ্নকে লালান পালন করে।প্রতিটা সংসারে একজন স্ত্রী তার স্বামীর কাছে কতটুকু মুল্য পায় আমার জানা নেই।তবে প্রতীটা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার এর স্ত্রী তার স্বামীর কাছে মহারাণী হয়ে থাকে।
৪. দীর্ঘ সময় পরে সংসারের ভিতরে আসে বলে এরা এদের সংসার কে জান দিয়ে আগলে রাখেতে পারে।
নিজের সন্তান নিজের স্ত্রীকে প্রতিবার ই নতুন করে ভালোবাসতে পারে।
৫.একজন মেরিনার তার প্রতিটা পয়সা সৎ ভাবে উপার্জন করে থাকে।জাকে বলা যায় হালাল রোজগার।
৬. একজন মেরিনার প্রায় পুরো পৃথীবির এক ভাগ স্থল আর তিন ভাগ জলেই বিচরন করে।মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর সৃ্ষ্টির নেয়ামত তারা যতটা দেখার সুযোগ পায় আমরা পাই না।আমরা সাধারনেরা পার্থিব জগত নিয়ে অশিকাংশই মেতে থাকি কিন্তু তারা আল্লাহভীরু হয়।
৭.মেরিনাররা প্রত্তেকেই একজন করে মুসাফির। যতক্ষণ তারা পানির উপরে থাকে তাদের উপরে নামাজ কসর করে পড়তে হয়।কারন সমুদ্র হলো পবিত্র স্থান।শান্তির স্থান।
#এবার আসি চরিত্রের কথায়।দেশের বাহিরে থাকলে তার চরিত্র খারাপ এই ধারনা কি আসলেই সত্যি? দেশের মানুষ কি সবাই চরিত্রবান? যে ভালো সে জগতের সব খানেই ভালো। আর যে খারাপ সে দেশের মাটিতেও খারাপ।নিজের সঙ্গীকে বিশ্বাস করতে শিখুন।আমি আমার স্বামীকে বিশ্বাস করি।১০০% করি।কারণ, সে সেই বিশ্বাস টা অর্জন করছে।
#একবার ভাবুন তো, দেশে যারা চাকরি বা ব্যাবসা করে তারা সারাবছর তাদের বউ এর সাথে ঘুমায় এক বিছানায়।এবং আমার মতে তারা বাস্তবেই ঘুমায়।কারন,তারা সারাদিন গরু খাটা খাটে আসে ক্লান্ত থাকে।বউ এর সাথে বাচ্চার সাথে ভালো মন্দ কথা বলার এনার্জি টা কয়জনের থাকে? কয়দিন থাকে? তারা কি আসলেই তাদের স্বামী বা স্ত্রীর সাথে সারাবছর থাকে? একজন আর এক জন কে সময় দেয়?
#যদি যুক্তির কথায় আসি তাহলে___________
আমি বছরে ছয় মাস আমার স্বামীকে আমার কাছে পাই।তবে ছয় মাসের প্রতিটা সেকেন্ড প্রতিটা মিনিট প্রতিটা দিন প্রতিটা রাত সবটাই আমার।আর যখন সে বাকি ছয় মাস জাহাজে থাকে,তখনও তার প্রতিটা মূহুর্ত কাটে ঘরে ফেরার তাড়নায় ঘরের মানুষদের কথা ভেবে।
একটা কথা আছে বাংলা প্রবাদে,"দাঁত থাকতে মানুষ দাঁতের মর্যাদা বুঝে না।এই কথা ধরেই আজ বলছি, একজন মেরিনার স্ত্রী তার স্বামীর মর্যাদা টা বুঝে।আর একজন মেরিনার ও তার স্ত্রীর মর্যাদা বুঝে। ওই যে,সব সময় সাথে থাকিনা হয়ত তাই।
তাই আমি গর্বিত যে, আমি একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার এর স্ত্রী
জাহাজী জীবন সম্পর্কে মানুষ জেনে যত টা না মন্তব্য করে তার চেয়ে অধিক মন্তব্য করে না জেনে।আর এক শ্রেণী আবার এমন যে, কেউ সুখে থাকলে তাকে খোঁচানো টা আশে পাশের মানুষ দের সভাব হয়ে দাঁড়ায়।কারন তারা অন্যের সুখ দেখতে অভ্যস্ত নয়।তাদের অসস্তি লাগে অন্যের সুখে। এমন হিংসাতক মানুষীকতা পরিহার করা উচিত।
#সকল মেরিনারদের জন্য অঢেল সম্মান আর শ্রদ্ধা রইল। ভালো থাকুক সকল মেরিনার ভালো থাকুক তাদের পরিবার। শুভ কামনা
___একজন মেরিনার স্ত্রী___
ভালো লেগেছে তাই শেয়ার করলাম
No comments:
Post a Comment